৩৬৫ দিন। হাই বেঞ্চে উঠে পাখার সঙ্গে দড়ি বাঁধছে একটা লোক। তারপর ফাঁস তৈরী করে তা নিজের গলায় ঢোকানোর উপক্রম করছে! ফেসবুক লাইভে এই ভিডিও দেখে প্রথমটায় অনেকে ভেবেছিলেন ‘প্র্যাঙ্ক’ হবে। আজ কাল তো এ সবের খুব চল হয়েছে। কিন্তু মোবাইলের ক্যামেরা সামান্য ঘুরতেই যখন দেখা গেল ঘরের দেওয়ালে কালো বোর্ড রয়েছে তখন বুঝতে বাকি থাকে না এটি একটি স্কুল রুম। সেই ঘরেই কেউ আত্মহত্যা করতে চলেছেন। মজা নয়, ব্যাপারটা সত্যি তখন-ই শুরু হয় তৎপরতা। শেষে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন তার ফেসবুক ফ্রেন্ডরা। ঘরের ভিডিও দেখে খুঁজে বের করা হয় স্কুল। তার পর সেই স্কুলে রীতিমত অভিযান চালিয়ে যখন কয়েকজন পৌঁছোয় ততক্ষণে ওই ব্যক্তি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েছে। তবে তখন-ও সে বেঁচে আছে। ছটফট করছে গলার দড়ি খোলার জন্য।
কালক্ষেপ না করে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। স্কুল ঘরে ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা হুগলির উত্তরপাড়ার। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, হুগলির উত্তরপাড়ার ভদ্রকালীতে জিটি রোডের ওপর ভদ্রকালী হাইস্কুল। স্কুলে আপাতত কোনও সিকিওরিটি গার্ড নেই। তাই পাড়ার ছেলেরাই পালা করে দিনে রাতে ওই স্কুল পাহাড়া দেয়। যে ব্যক্তি স্কুলে ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সেও স্কুল পাহাড়া দিতেই ওই স্কুলে ঢোকে। তারপর সে কেন আত্মহত্যা করার চেষ্টা করল তা পরিষ্কার নয়। পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তির বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা আছে। সম্ভবত এই শারীরিক সমস্যার কারণেই সে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তার জেরেই সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কেন ফেসবুক লাইভ করে স্কুল ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করল সে ? এর অবশ্য কোনো পরিষ্কার উত্তর এখনো নেই। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ জানাচ্ছে এখনই এ ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলা যাবে না। ওই ব্যক্তি কিছুটা সুস্থ হলে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কেউ তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিল কি না তা তখন-ই বোঝা যাবে। তবে এখনো পর্যন্ত যা তথ্য প্রমাণ সামনে এসেছে তাতে মনে হচ্ছে মানসিক অবসাদ থেকেই সে স্কুল ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
উত্তরপাড়ার স্কুলে ফেসবুক লাইভ করে আত্মহত্যার চেষ্টা




